আলোচনার সম্ভাবনাতেও থামেনি গাজায় ইসরায়েলি হামলা


Md Firoj প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৭, ২০২৩, ১২:৩১ অপরাহ্ন /
আলোচনার সম্ভাবনাতেও থামেনি গাজায় ইসরায়েলি হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হামাসের হাতে বন্দি থাকা জিম্মিদের মুক্ত করতে ইসরায়েলি নেতারা ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে থাকলেও রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। গাজার খান ইউনিস, দেইর আল বালাহ ও রাফাহতে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও হামলা হয়েছে। সেখানে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।

আলোচনার সম্ভাবনা

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ড্যাভিড বানিয়া শুক্রবার শেষ রাতের দিকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে রয়টার্সকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর ফলে গাজায় বিরতি ও ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে জিম্মিদের ফিরে যাওয়ার সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নভেম্বরের শেষ দিকে সাত দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর ইসরায়েল ও কাতারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে এটিই প্রথম বৈঠক।

এই বৈঠক নিয়ে একটি প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তবে নিশ্চিত করেছেন যে, মধ্যস্থতাকারী দলকে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিভিন্ন স্থানে হামলা

গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, মধ্যাঞ্চলীয় শহর দেইর আল বালাহতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।

খান ইউনিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাবালিয়াতেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাজার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলে বানি সুহাইলেও ইসরায়েল বিমান ও কামান হামলা চালিয়েছে।

খান ইউনিসের দক্ষিণ-পূর্বে মা’ন এলাকাতেও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দুটি হামলা চালিয়েছে।

জাবালিয়াতে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ২০

উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে একটি আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত ও প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন।

শেহাব পরিবারের বাড়ি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণে প্রতিবেশী বাড়িগুলোতেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জাবালিয়ার চিকিৎসাকেন্দ্রে নিহত ও আহত এবং শিশুদের নেওয়া হয়েছে। আহতদের অনেকে মেঝেতে শুয়ে আছেন। সেখানেই তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১১টি আংশিক সচল রয়েছে।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি গুলিতে তিন ফিলিস্তিনি নিহত

দখলকৃত পশ্চিম তীরের তুলকারম এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। রবিবার এই ঘটনা ঘটেছে। জেনিন এলাকায় কয়েকদিন আগে আহত আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে। 

রাফাহতে ইসরায়েলি হামলায় আহত অর্ধশতাধিক

রাফাহ অঞ্চলের জেনেইনা জেলায় শনিবার দিবাগত রাতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর আগেও অঞ্চলটিতে হামলা হয়েছে। আবাসিক বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে এবং সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।

বিস্ফোরণে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের হাসপাতালে বেশ কয়েকজন আহতকে নেওয়া হয়েছে। আল জাজিরা আহতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক বলে উল্লেখ করেছে।

আরও দুই সেনা নিহতের কথা জানালো ইসরায়েল

গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আরও দুই রিজার্ভ সেনা নিহতের কথা জানিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। এর ফলে চলমান যুদ্ধে নিহত ইসরায়েলি সেনাদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১ জনে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন, শনিবার লড়াইয়ে এই দুই সেনা নিহত হয়।

৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে হামাস যোদ্ধারা ১১৪৭ জনকে হত্যা ও ২৪০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে আসে। জবাবে ইসরায়েলের বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে প্রায় ১৯ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হাজারো মানুষ ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছেন।