চীনা জলকামানের মুখে পড়েছিলেন ফিলিপাইনের সেনাপ্রধান


Md Firoj প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১১, ২০২৩, ১২:৪৬ অপরাহ্ন /
চীনা জলকামানের মুখে পড়েছিলেন ফিলিপাইনের সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা জাহাজের জলকামান নিক্ষেপ ও আঘাতের সময় ফিলিপাইনি নৌবহরের একটি নৌযানে ফিলিপাইনের সেনাপ্রধান অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করেছে ম্যানিলা। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দেশটির পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ফিলিপাইনের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ রোমিও ব্রাউনার জানান, যে নৌযানটিতে জলকামান ছোড়া হয়েছিল এবং ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল, সেটিতে তিনি ছিলেন।

স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনকে রোমিও ব্রাউনার বলেন, তিনি আহত হননি। তারা মনে করেন না এবং বিশ্বাস করেন না যে চীন জানতো তিনি ওই নৌযানে ছিলেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জোনাথন মালায়া বলেন, ‘চীনের প্রতিনিধিদের দ্বারা এমন ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।’ ওই সম্মেলনে নৌবহরে জলকামান ছোড়া এবং ধাক্কা দেওয়ার ছবি ও ভিডিও দেখান কর্মকর্তারা।

দক্ষিণ চীন সাগরে এমন ‘আক্রমণাত্মক’ পদক্ষেপের জন্য চীনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ফিলিপাইন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এটি ‘শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি’।

দক্ষিণ চীন সাগরে সেনাদের বহনকারী ফিলিপাইনের জাহাজগুলোতে চীনের জলকামান ছোড়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়।

চীনের এমন ‘আক্রমণাত্মক’ আচরণ নিয়ে বারবার অভিযোগ করে আসছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফিলিপাইনের সামুদ্রিক অভিযানে হস্তক্ষেপ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট না করতে এবং কৌশলগত জলসীমায় ‘দেশটির বিপজ্জনক এবং অস্থিতিশীল আচরণ’ বন্ধ করতে চীনকে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


এদিকে, চীনের সরকারি সামরিক সংবাদপত্রের একটি কলামে ফিলিপাইনকে অবিলম্বে তার সীমা লঙ্ঘন বন্ধ করার, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার এবং ‘নিজের পায়ে কুড়াল মারা’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইনকে উসকানি দিয়ে সংঘাতের ইন্ধন জোগাচ্ছে—চীনের এমন দাবির কোনও ভিত্তি নেই এবং দেশটির সেনা সরবরাহ মিশনে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত ছিল না বলেও উল্লেখ করেছেন জোনাথন মালায়া।

উল্লেখ্য, প্রায় সমগ্র দক্ষিণ চীন সাগরে নিজেদের মালিকানা দাবি করে আসছে চীন। এই সাগরের বিভিন্ন অংশের মালিকানা দাবি করে আসছে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই ও ইন্দোনেশিয়া। ২০১৬ সালে পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন এক রায়ে বলেছে, চীনের দাবির কোনও আইনি ভিত্তি নেই। এ রায়টি যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং।