যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থি ও ইসরায়েলপন্থি প্রতিবাদকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ


Assroy প্রকাশের সময় : মে ১, ২০২৪, ১:২৮ অপরাহ্ন /
যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থি ও ইসরায়েলপন্থি প্রতিবাদকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে (ইউসিএলএ) ফিলিস্তিনপন্থি ও ইসরায়েলপন্থি প্রতিবাদকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ মে) একটি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যমের লাইভ কভারেজে সংঘর্ষের চিত্র দেখা গেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

ইউসিএলএর শিক্ষার্থীতের পত্রিকা ডেইলি ব্রুইন বলেছে, ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রতিবাদকারীদের ক্যাম্প ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন ইসরায়েলের সমর্থকরা। এসময় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগোযোগমাধ্যম এক্সে করা একটি পোস্টে লস এঞ্জেলেস ডেপুটি মেয়র অব কমিউনিকেশনস জ্যাচ সিডল বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবশে করেছে। ইউসিএলএ চ্যান্সেলর জিন ব্লকের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ক্যাম্পাসে যান তারা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি এর একটি সহযোগী সম্প্রচারকারী কেএবিসি এর লাইভ ফুটেজে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করার জন্য কিছু মানুষকে লাঠি নিয়ে যেতে দেখা গেছে। আরও কয়েকজনকে প্ল্যাকার্ড ও ছাতা হাতেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ফিলিস্তিনপন্থি প্রতিবাদকারীদের রক্ষার জন্য কাঠের বোর্ড দিয়ে একটি অস্থায়ী ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। সেই ব্যারিকেডের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন ইসরায়েলপন্থি প্রতিবাদকারীরা।

প্রতিবেদনে ওই সংঘর্ষের বিষয়ে আরও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এতে হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেছে কিনা তাও স্পষ্ট নয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের একটি একাডেমিক ভবন থেকে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছিল নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ। তখন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আইভি লিগ স্কুলটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা প্রতিবাদকারীদের একটি ক্যাম্পকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে দেন তারা।

৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা করে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এই হামলায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মতে, ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় গাজায় ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের এই নির্বিচার হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। যুদ্ধ শুরু পর থেকেই গাজায় যুদ্ধবিরতির এবং ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে একের পর এক বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করে আসছেন তারা। এবারের বিক্ষোভ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলেছে, যা ২০২০ সালের বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভের পর মার্কিন শিক্ষার্থীদের অংশ নেওয়া সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের ঘটনা।