যুদ্ধাপরাধী হিসেবে নেতানিয়াহুর বিচার হবে: এরদোয়ান


Md Firoj প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৪, ২০২৩, ২:৫৭ অপরাহ্ন /
যুদ্ধাপরাধী হিসেবে নেতানিয়াহুর বিচার হবে: এরদোয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেছেন, শেষ পর্যন্ত একজন যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিচার হবে। সোমবার (৪ ডিসেম্বর) ইস্তাম্বুলে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর এক বৈঠকে দেওয়া ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, পশ্চিমা সমর্থন ইসরায়েলকে নির্বিচারে শিশুদের হত্যায় সহযোগিতা করছে এবং ইসরায়েলের অপরাধে তারাও দায়ী হচ্ছে।

কয়েক দশক পুরনো ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিরসনে তুরস্ক দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন করে। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে আসছে দেশটি। ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে গাজায় অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি।

এরদোয়ান বলেছেন, যুদ্ধাপরাধী ছাড়াও নেতানিয়াহু এখন গাজার কসাই। মিলোসেভিচের মতো তাকেও গাজার কসাই হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

মিলোসেভিচ যুগোস্লাভের সাবেক প্রেসিডেন্ট। গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে হগভিত্তিক একটি ট্রাইব্যুনালে তার বিচার হয়েছে।

পশ্চিমা শক্তিগুলোকে কালা ও বধির উল্লেখ করে এরদোয়ান বলেছেন, যারা হামাসকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে এত নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তাদের কাছে মানবতা বলে অবশিষ্ট কিছু নেই।

বেশিরভাগ পশ্চিমা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মতো ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মনে করে না ন্যাটো সদস্য তুরস্ক। দেশটিতে হামাসের কয়েকজন নেতা অবস্থান করছেন।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, গত মাসে ওআইসি ও আরব লিগ গাজা ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলোর একটি প্রতিনিধি দল গঠন করেছে। দলটি পশ্চিমাসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণ বন্ধের জন্য।  কিন্তু আরও অনেক কিছু করার রয়েছে।

তিনি বলেন, এই ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-কে পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রের কথা ভুলে গেলে চলবে না।

তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্বশীল উদ্যোগ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের দ্বারা ভেস্তে গেছে। এই ব্যবস্থাকে কেউ মেনে নিচ্ছে না। এমন কাঠামোর পক্ষে শান্তি বা মানবতার জন্য আশাবাদ হওয়া সম্ভব না।