আর্জেন্টিনার বুক কাঁপানো অস্ট্রেলিয়াকে কি চমকে দেবে বাংলাদেশ?


Md Firoj প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৬, ২০২৩, ৮:৪৭ পূর্বাহ্ন /
আর্জেন্টিনার বুক কাঁপানো অস্ট্রেলিয়াকে কি চমকে দেবে বাংলাদেশ?

আশ্রয় ডেস্ক

তারা এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দেশ। টানা বিশ্বকাপ খেলে আসছে, গত পাঁচ আসর ধরে। সবশেষ গত বছর কাতার বিশ্বকাপে একটুর জন্য খেলা হয়নি কোয়ার্টার ফাইনালে। শেষ ষোল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে, তাও আবার আর্জেন্টিনার কাছে হেরে। বলা হচ্ছে তাসমান সাগরের দেশ অস্ট্রেলিয়ার কথা। আহমেদ বিন আলী স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে ২-১ গোলে হারলেও সকারুরা মেসিদের ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাছাই পর্বের গ্রুপ ম্যাচে সেই অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ‘পুঁচকে’ বাংলাদেশ। ১৫৬ ধাপ এগিয়ে থাকা দলটির বিপক্ষে ফল কী হয়, সেদিকে  ফুটবল সমর্থকদের আগ্রহ একটু বেশি। ২০২৬ বিশ্বকাপের এশিয়া অঞ্চলের বাছাইয়ে বৃহস্পতিবার মেলবোর্নের রেক্টাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় দুই দল মাঠে নামবে।

একটি দল এশিয়ার শীর্ষস্থানে আছে, অন্যটি তলানির দিকে। তাই ব্যবধান কী হতে পারে তা অনেকেই আন্দাজ করতে পারছেন। স্বাভাবিকভাবে সকারুদের জয়ের পাল্লা অনেক ভারি। শুধু ভারি বললেই ভুল হবে। গোলের ব্যবধান কত হতে পারে, তাও অনেকেই ভেবে রাখতে পারেন।

তবে কথার পিঠে কথা থাকে। এবার ২০১৫ সালের দৃশ্যের অবতারণা নাও হতে পারে। সেবার যেমন পার্থে ৫-০ ও ঢাকায় ৪-০ তে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। টিম কাহিলরা পেয়েছিল সহজ জয়। এবার ‘সহজ’ শব্দে ছেদ পড়তে পারে। সকারুরা জিতলেও কিছুটা হলে বাধার মুখে পড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে প্রতিপক্ষ যাই থাকুক, লড়াই করছে বিশ্বনাথ-মোরসালিনরা। এই যেমন ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা লেবানন ও কুয়েতের বিপক্ষে ভালো পারফর্ম করেও পয়েন্ট নেওয়া যায়নি। গোল মিস করলে তো ম্যাচ থেকে পয়েন্ট নেওয়া কঠিন।

এছাড়া ফিফা প্রীতি ম্যাচে আফগানিস্তানে বিপক্ষে দুটি ম্যাচে ড্র কিংবা বিশ্বকাপ প্রাক বাছাইয়ে মালদ্বীপের বিপক্ষে জয়টাও ছিল আশা জাগানিয়া। হাভিয়ের কাবরেরা অন্তত শিষ্যদের মধ্যে লড়াইয়ের বীজটা বুনে দিয়েছেন। তাই তো বলতে হবে প্রতিপক্ষ যাই থাকুক না কেন, মাঠে কিন্তু লাল-সবুজ দল বুক চিতিয়ে লড়ছে। তাতে করে ক্ষতি যতটা কমানোর পাশাপাশি জয়ও যেন ধরা দেয়, সেই কামনা।

তবে অস্ট্রেলিয়া তো লেবানন কিংবা কুয়েত নয়। তাদের র‌্যাঙ্কিং বলছে তাদের অবস্থান কোথায়। স্বভাবসুলভ খেলাটা খেলতে পারলে মেলবোর্নের মাঠে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা। ঠান্ডা আবহওয়ার মধ্যে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দাঁতে দাঁত চেপে একের পর এক আক্রমণ রুখে দেওয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ।

৯০ মিনিট প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে পারলে তা হবে বড় সাফল্য।  যা বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে নেই। যদিও তা বেশ কঠিন। সব দিক দিয়ে এগিয়ে সকারুরা একের পর এক আক্রমণ করে বাংলাদেশের রক্ষণ ভেদ করে গোল করার জন্য মরিয়া থাকবে। বিশ্বনাথ-সাদ কিংবা মিতুলদের সর্বোচ্চ সতর্ক হয়ে খেলা ছাড়া বিকল্প কিছু নেই।

জামাল-সোহেল রানাদের ব্লকটা তৈরি করতে হবে মধ্যমাঠ থেকেই। যেন ডি বক্সের ভেতরে সুযোগ বেশি না আসে। কাবরেরা চাইছেন অসম প্রতিপক্ষকে যে করেই হোক আটকে রাখতে। তাই ফয়সাল আহমেদ ফাহিম কিংবা রাকিব হোসেনকে প্রতি আক্রমণে উঠে মাঝে মধ্যে ঝলক দেখানোর লক্ষ্য তো থাকছে। এতে করে প্রতিপক্ষ যদি কিছুটা ভীত হয়!

লাল-সবুজ দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া আগেই বলেছেন, বর্তমান দলটি ২০১৫ এর চেয়ে ভালো। তা সবদিক দিয়ে। মাঠে তার প্রমাণ দেওয়ার পালা এবার। অধিনায়ক স্বপ্ন দেখছেন ন্যূনতম এক পয়েন্টের। বড় স্বপ্নই বটে।

সকারুদের গোলকিপার ও অধিনায়ক ম্যাথু রায়ান বাংলাদেশকে সমীহ করছেন বটে। কিন্তু নিজেদের খেলাটা খেলার হুমকিও দিয়ে রেখেছেন, ‘এই পর্বের শুরুতে যে চ্যালেঞ্জই আসুক, আমাদেরকে একসাথে তা মোকাবিলা করতে হবে। ফুটবলে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই। প্রতিপক্ষ যেই হোক, তাদেরকে শ্রদ্ধা করতে হবে। এটা আমাদের ওপর এবং আমরা কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি তার ওপর নির্ভর করছে। আমাদের যে মান, সেটা ধরে রাখার এবং আরও উঁচুতে তোলার চেষ্টা করবো আমরা।’

বড় ব্যবধানে হার, নাকি লড়াই করে হার, হতে পারে এক পয়েন্ট পেয়েও গেলো। কথার যুদ্ধের পর মাঠেই এখন সবকিছু প্রমাণের পালা। তাসমান সাগর পাড়ের দেশের বড় জয় নাকি নদীবিধৌত দেশটির ‘চমক’ তা-ই যেন দেখার অপেক্ষায় সবাই!