কিউই কন্ডিশনে একই ব্যর্থতার গল্প


Md Firoj প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৭, ২০২৩, ১২:১৯ অপরাহ্ন /
কিউই কন্ডিশনে একই ব্যর্থতার গল্প

আশ্রয় ডেস্ক

বরাবরের মতো এবারও বদলায়নি দৃশ্যপট। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেই একই গল্পে শুরু বাংলাদেশের। রবিবার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৪৪ রানের ব্যবধানে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে সীমিত ওভারের কোনও ম্যাচ জেতা হয়নি বাংলাদেশের। তিন সংস্করণ মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের মাঠে ৩৬ ম্যাচ খেলেছে। ২০২২ সালে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় ছাড়া বাকি ৩৫ ম্যাচেই হার হয়েছে সঙ্গী। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বরাবরই অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। রবিবারও হয়েছে তাই। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচটির দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৩০ ওভারে। নির্ধারিত ৩০ ওভারে স্বাগতিকরা ২৪০ রানের লক্ষ্য দেয়। সেই লক্ষ্যে টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় ২০০ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।  

টপ অর্ডারের ব্যর্থতার কারণেই জয়ের দারুণ সুযোগটি হেলায় হারাতে হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেট কোন কিছু না করলেও সৌম্য সরকারকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। অধিনায়ক শান্ত জানিয়েছিলেন, সাকিবের দায়িত্ব পালন করতেই সৌম্যকে দলে নেওয়া। কিন্তু সুযোগটা বিন্দুমাত্র কাজে লাগাতে পারেনি এই টপ অর্ডার ব্যাটার। ব্যাটিং ভুলে যাওয়া সৌম্য ফিল্ডিংয়ে ক্যাচ ছেড়েছিলেন। বোলিংয়ে ৬ ওভারে দিয়েছেন ৬৩ রান। ব্যাটিং করতে নেমে ৪ বল খেলে ফিরেছেন কোন রান না করেই! অ্যাডাম মিলনের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে কাট আর খোঁচার মাঝামাঝি কিছু করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে হতাশার গল্পটাই লিখেছেন তিনি।

সৌম্যর বিদায়ের পর এনামুল হক বিজয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত দায়িত্ব নিয়েই ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু ছক্কার চেষ্টা করতে গিয়ে আউট হয়েছেন শান্ত। আর পুলের চেষ্টায় ৪৩ রানে কাটা পড়েন এনামুল। তবে সবচেয়ে অদ্ভুত আউট হয়েছেন উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন। ক্লার্কসনের স্লো বাউন্সারে শুরুতে শট খেলতে উদ্যত হলেও মাঝে আটকে রেখেছিলেন নিজেকে, শেষ মুহূর্তে আবার ব্যাট চালালেন। এমন দ্বিধায় ব্যাট চালাতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনেন তিনি। 

৯২ রানে টপ অর্ডারের ৪ ব্যাটারকে হারানোর পর জয়ের আশা এক অর্থে শেষই হয়ে যায়। এরপর মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত মুশফিকও রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরে বাংলাদেশ। এরপর তাওহীদ হৃদয়ের ২৭ বলে ৩৩, আফিফ হোসেনের ২৮ বলে ৩৮ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ২১ বলে ২৮ রানের ইনিংসের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দল কোন রকমে ২০০ রান সংগ্রহ করে। টপ অর্ডার দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে পারলে পুরনো গল্পটা আজ ডানেডিনে লেখা হতো না। বাংলাদেশও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে লাল-সবুজের পতাকাটা উড়াতে পারতো। কিন্তু হয়নি ব্যাটারদের ব্যর্থতায়।

এর আগে টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ। অধিনায়কের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতেই পেসার শরিফুল ইসলাম প্রথম ওভারে ফেরান রাচিন রবীন্দ্র ও হেনরি নিকোলাসকে। ৫ রানে দুই উইকেট হারানো কিউইদের বেশ ভালো ভাবেই চেপে ধরার সুযোগ পেয়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু সেই চাপ অব্যাহত রাখতে পারেনি বোলাররা। তৃতীয় উইকেটে রেকর্ড জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোর এনে দিতে ভূমিকা রাখেন টম ল্যাথাম ও উইল ইয়াং। তাদের ১৭১ রানের জুটি বাংলাদেশের বিপক্ষে যে কোনো উইকেটে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ জুটি এখন ল্যাথাম-ইয়াংয়ের। ইয়াংয়ের সেঞ্চুরি (১০৫) ও লাথামের (৯২) রানে নিউজল্যান্ড ২৩৯ রান স্কোরবোর্ডে জমা করে।

তবে কয়েক দফার বৃষ্টিতে বাংলাদেশের মোমেন্টাম নষ্ট হয়েছে। তিন বিশেষজ্ঞ পেসার আগেই শেষ করেন নিজেদের কোটার ৬ ওভার। তাই শেষ ৩ ওভারে বোলিং করতে হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজ, সৌম্য সরকার ও আফিফ হোসেনদের। যার সুযোগটা ভালো ভাবেই নেয় স্বাগতিকরা। শেষ তিন ওভারে সংগ্রহ করে ৩৮ রান। তার মধ্যে সৌম্য একাই দিয়েছেন ২৬ রান। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার শরিফুল; ২৮ রানে নিয়েছেন দুটি উইকেট।