‘দেশের হয়ে খেলছি, একটা চাকরি খুব দরকার’


Assroy প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২৪, ১:১৮ অপরাহ্ন /
‘দেশের হয়ে খেলছি, একটা চাকরি খুব দরকার’

আশ্রয় ডেস্ক

রাঙামাটির জুড়াছড়ি থেকে উঠে এসে সুরো কৃষ্ণ চাকমা এখন বাংলাদেশের পেশাদার বক্সিংয়ে পোস্টার বয়। দেশে-বিদেশে পেশাদার বক্সিংয়ে অংশ নিয়ে লাল-সবুজ পতাকা উঁচিয়ে ধরে চলেছেন। তবে পেশাদার বক্সিং খেললেও সুরো নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে এখনও দোলাচলের মধ্যে আছেন। স্থায়ী কোনও আয়ের উৎস কিংবা চাকরি না থাকায় ভবিষ্যত নিয়ে অন্ধকারে রয়েছেন!

পেশাদার বক্সিংয়ে নামার আগে সুরোর অ্যামেচার প্রতিযোগিতায় খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। খেলেছেন দেশের হয়ে। পেশাদার বক্সার হয়ে এখন অন্যভাবে দেশের নাম উজ্জ্বল করে চলেছেন। বক্সিংয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাও ঠিকঠাক করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি থেকে বেশ আগেই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

২৯ বছর বয়সে বক্সিংকে ধ্যানজ্ঞান মেনে এগিয়ে চলেছেন। পেশাদার বক্সিং খেলে যাচ্ছেন পৃষ্ঠপোষকদের সৌজন্যে। তবে নিজের পরিবার চালাতে ও বক্সিংয়ে এগিয়ে যেতে স্থায়ী চাকরির জন্য হাপিত্যেশ ফুটে উঠেছে তার কণ্ঠে। এই তো থাইল্যান্ডের ব্যাংককে সবশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেও মনটা আবারও একটু বিষন্ন হয়েছে। সেখানে ভারতের এক বক্সারের কাছে তাদের দেশের সুবিধাদি নতুন করে শুনে আফসোস ঝরেছে তার কণ্ঠে।

সুরো বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘ভারতের বক্সার যখন শুনলো আমি দেশের হয়ে খেলেছি, এখন পর্যন্ত সাতটি পেশাদার টাইটেল জিতেছি। কিন্তু কোনও সরকারি চাকরি বা সেভাবে কোনও স্থায়ী আয়ের উৎস নেই, তখন সে অবাকই হয়েছে। তাদের ওখানে বক্সিংয়ে একটু ভালো করতে পারলেই নানান সুবিধাদি দেওয়া হয়ে থাকে। সরকার থেকেই যার যার রাজ্যে মানসম্মত চাকরি, যেমন ডিএসপি পদে চাকরি হয়ে থাকে। আর আমাদের এখানে তো সেই সুবিধাই নেই।’

সুরো সামনেরর দিকে এশিয়ান বক্সিংয়ের বড় আসরে নাম লেখাতে যাচ্ছেন। বড় রকমের বেল্টের জন্য লড়বেন। তার স্বপ্ন প্রসারিত। কিন্তু একটা সম্মানজনক চাকরি পেলে নিজের ক্যারিয়ারকে আরও এগিয়ে নিতে সুবিধা হতো বলে তিনি জানালেন, ‘দেখুন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি। পাশাপাশি বক্সিং খেলছি। যেখানে খেলি না কেন দেশের পতাকা তুলে ধরি, প্রতিনিধিত্ব করি। দেশই সবার আগে। কিন্তু আমার কোনও চাকরি নেই। একটা সম্মানজক চাকরি খুব দরকার। যাতে করে পেশাদার বক্সিংটা ঠিকঠাক এগিয়ে নিতে পারি।’

সুরোর বক্সিংয়ের পেছনে খরচ কম নয়। খাবারের পেছনে মাসে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এছাড়া কোচের বেতনসহ অন্য ব্যয় তো রয়েছেই। পৃষ্ঠপোষক বিকাশ ও বক্সি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এখনও টিকে রয়েছেন। কতদিন তা স্থায়ী হবে তা জানেন না তিনি, ‘বিকাশ ও বক্সিং ফাউন্ডেশন না থাকলেও পেশাদার বক্সিংয়ে খেলা কঠিন ছিল। যার কারণে এখনও খেলে যাচ্ছি। ঢাকায় পরিবার নিয়ে থাকার পাশাপাশি বক্সিং চালিয়ে নিতে অনেক অর্থ প্রয়োজন। একটা সম্মানজন সরকারি চাকরি হলে হয়তো নির্ভার থাকা যেতো। বক্সিংয়ে মনোযোগটা বেশি দেওয়ার সুযোগ ছিল। পাশের দেশে ভারতে তো বক্সারদের সরকার থেকে সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। আমাদের দেশে এমনটি দিতে পারলে সবার জন্যই ভালো হতো।’

সুরো আশায় আছেন, একসময় সরকারর কাছ থেকে সাড়া পাবেন। তাকে দেখে বর্তমানে অনেকেই পেশাদার বক্সিংয়ে নাম লেখাচ্ছেন। স্থায়ী কোনও চাকরি পেলে তখন নিজের কিংবা অন্যদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে না। পেশাদার বক্সিংয়ে একের পর এক শিরোপা জিতে দেশের সুনাম আরও উজ্জ্বল করবেন, এমন প্রত্যাশায় দিন কাটছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থেকে উঠে আসা দেশসেরা বক্সারের।