সৌম্যর ম্যাচসেরা পারফরম্যান্সের দিনে বাংলাদেশের সিরিজ হার


Md Firoj প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২০, ২০২৩, ১২:৫৩ অপরাহ্ন /
সৌম্যর ম্যাচসেরা পারফরম্যান্সের দিনে বাংলাদেশের সিরিজ হার

স্পোর্টস ডেস্ক

দ্বিতীয় ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড: ৪৬.২ ওভারে ২৯৬/৩ (ব্লান্ডেল ২৪*, ল্যাথাম ৩৪*, নিকোলস ৯৫, ইয়াং ৮৯, রাচিন ৪৫)

বাংলাদেশ: ৪৯.৫ ওভারে ২৯১/১০ (শরিফুল ১*, হাসান ০, রিশাদ ৬, সৌম্য ১৬৯, তানজিম ১২, মিরাজ ১৯, মুশফিক ৪৫, হৃদয় ১২, লিটন ৬, শান্ত ৬, বিজয় ২)

ফল: নিউজিল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: সৌম্য সরকার।

১৬৯ রানের দ্যুতিময় ইনিংস খেলেন সৌম্য সরকার। প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশ ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন তিনি। তার সঙ্গে মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ চমৎকার জুটি গড়েন। দুজনই বিদায় নিলেও স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে থাকেন সৌম্য। বাঁহাতি ব্যাটারের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ২৯১ রানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোর গড়ে বাংলাদেশ।

জবাবে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার ব্যাটাররা সাবলীল ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। রাচিন রবীন্দ্র ও উইল ইয়াং স্বাগতিকদের দারুণ শুরু এনে দেন। রাচিন বিদায় নিলেও হেনরি নিকোলস ও ইয়াংয়ের ব্যাটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় নিউজিল্যান্ড। দুজনেই সেঞ্চুরি করার সুযোগ ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্য যে অল্পের জন্য ব্যর্থ হন তারা। তবুও এই তিন ব্যাটারের ব্যাটে চড়ে ৭ উইকেটে জিতে গেছে স্বাগতিকরা। ৪৬.২ ওভারে ৩ উইকেটে ২৯৬ রান করে তারা।

এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ তে জিতে নিলো নিউজিল্যান্ড। আগামী ২৩ ডিসেম্বর হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে খেলবে বাংলাদেশ। দল হারলেও ম্যাচসেরা হয়েছেন সৌম্য।

নিকোলসও সেঞ্চুরি বঞ্চিত

বাংলাদেশের ২৯১ রানের জবাবে বেশ ভালো অবস্থানে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্ষেপে পুড়লেন তিন ব্যাটার। উইল ইয়াংয়ের পর হেনরি নিকোলসও সেঞ্চুরি করতে ব্যর্থ হলেন। তাকে ৯৫ রানে রিশাদ হোসেনের ক্যাচ বানান শরিফুল ইসলাম। ৯৯ বলের ইনিংসে ছিল ৮ চার ও ১ ছয়। এর আগে হাসান মাহমুদের শিকার হয়ে রাচিন রবীন্দ্র (৪৫) হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেননি। ইয়াং (৮৯) ফিফটি করলেও বাংলাদেশি বোলারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন।

ইয়াংকে সেঞ্চুরি করতে দেননি হাসান

হাসান মাহমুদের শিকার হয়ে রাচিন রবীন্দ্র হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেননি। উইল ইয়াং ফিফটি করলেও বাংলাদেশি বোলারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সেঞ্চুরি বঞ্চিত হলেন। ৯৪ বলে ৮ চার ও ২ ছয়ে ৮৯ রান করে হাসানের হাতে ফিরতি ক্যাচ তুলে দেন নিউজিল্যান্ড ওপেনার। ৩৩তম ওভারে ভেঙে গেলো ১২৮ রানের শক্ত জুটি।

ইয়াংয়ের পর নিকোলসের ফিফটি, অস্বস্তিতে বাংলাদেশ

হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়াংয়ের শতাধিক রানের জুটি বাংলাদেশকে অস্বস্তিতে রেখেছে। অবশ্য এই জুটি এতদূর আসতো না ইয়াংয়ের ক্যাচ তাওহীদ হৃদয় ছেড়ে না দিলে। ২৭তম ওভারে শরিফুল ইসলামের বলে ৭৬ রানে তাকে জীবন দেন বাংলাদেশি ফিল্ডার। দুই হাত বাড়িয়েও ক্যাচ নিতে পারেননি হৃদয়। ব্যক্তিগত ৮৩ রানে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান ইয়াং। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি, কিন্তু টিকে যান। দুইবার জীবন পেয়ে সেঞ্চুরির দিকে ছুটছেন ইয়াং, হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন নিকোলস। ৬৪ বলে তিন চারে ফিফটি করেন তিনি, এরই মধ্যে ২ হাজার ওয়ানডে রানের ক্লাবে নাম লিখেছেন। ৭৬ রানে ওপেনার রাচিন রবীন্দ্র উইকেট হারালে জুটি গড়েন তারা।

একশ ছাড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড, ইয়াংয়ের হাফ সেঞ্চুরি

নবম ওভারে নিউজিল্যান্ড পঞ্চাশ পেরিয়ে যায়। ১৭তম ওভারে তানজিম হাসান সাকিবের বলে ডাবলসে দলের স্কোর একশ পার করেন হেনরি নিকোলস। তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে হাফ সেঞ্চুরি করেন উইল ইয়াং।৫১ বলে ৮ চার মারেন তিনি। 

রাচিনকে আক্ষেপে পোড়ালেন হাসান

পাওয়ার প্লেতে ৬১ রান তোলা নিউজিল্যান্ড ১১তম ওভারে আরও আগ্রাসী। প্রথম দুই বলে হাসান মাহমুদকে চার মারেন উইল ইয়াং। চতুর্থ বলে স্ট্রাইকে গিয়ে ছক্কা হাঁকান রাচিন রবীন্দ্র। এক বল বিরতি দিয়ে তাকে ডিপ মিডউইকেটে রিশাদ হোসেনের ক্যাচ বানান হাসান। 

৩৩ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ে ৪৫ রান করেন রাচিন। ৭৬ রানে প্রথম উইকেট পায় বাংলাদেশ।

পাওয়ার প্লেতে ৬১ রান দিলো বাংলাদেশ

প্রথম চার ওভারে মাত্র ১০ রান দিলেও পরের ওভারগুলোতে খরুচে বাংলাদেশ। তাতে পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে রাচিন রবীন্দ্র ও উইল ইয়াং নিউজিল্যান্ডকে এনে দিয়েছেন ৬১ রান।

হাসান-শরিফুলের আঁটসাট বোলিং

শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদের আঁটসাট বোলিংয়ে সতর্ক শুরু করেছে নিউজিল্যান্ড। চার ওভারে মাত্র ১০ রান ‍তুলেছে রাচিন রবীন্দ্র ও উইল ইয়াংয়ের জুটি।

সৌম্যর অনবদ্য ইনিংসে বাংলাদেশের ২৯১ রান

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ডাক মেরে হয়েছিলেন সমালোচিত। সাকিব আল হাসানের শূন্যতা পূরণের চাপ নিতে পারেননি। তবুও দল তার ওপর আস্থা রেখেছিল। তার প্রতিদান দিলেন সৌম্য সরকার। ৪৪ রানে তিন সঙ্গীকে বিদায় নিতে দেখেন। চাপে বাংলাদেশ, কিন্তু নির্ভার সৌম্য। অনবদ্য এক ইনিংস খেললেন তিনি। দারুণ সঙ্গ পেলেন মুশফিকুর রহিমের কাছ থেকে। বাংলাদেশি উইকেটকিপার ব্যাটার ৯১ রানের জুটিতে অবদান রাখেন ৪৫ রান। তারপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও তানজিম হাসান সাকিব ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন, দুজন সৌম্যর সঙ্গে যথাক্রমে ৬১ ও ৪০ রানের জুটি গড়েন। আর একপ্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া সৌম্য ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসকে নিয়ে যান অনন্য উচ্চতায়। বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে দেড়শ রানের ইনিংস ছোঁন। একটুর জন্য লিটন দাসকে (১৭৬) পেছনে ফেলে দেশের সেরা ব্যাটার হতে পারেননি। ১৬৯ রানে থামেন শেষ ওভরে। একই ওভারে তিন উইকেট হারানোয় তিনশ হয়নি। ২৯১ রানে অলআউট সফরকারীরা। অথচ তিনশ ছাড়ানোর আভাস মিলেছিল।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে উইলিয়াম ও’রোর্ক ও জ্যাকব ডাফি তিনটি করে উইকেট নেন।

শেষ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে অলআউট বাংলাদেশ

অনবদ্য এক ইনিংসের ইতি ঘটলো শেষ ওভারে। অসাধারণ পারফরম্যান্স করে বিদায় নিলেন সৌম্য সরকার। ১৫১ বলে ২২ চার ও ২ ছয়ে ১৬৯ রান করেন তিনি। ৮ রানের জন্য লিটন দাসকে (১৭৬) ছাড়িয়ে সেরা ব্যাটারের মর্যাদা পাওয়া হলো না তার। উইলিয়াম ও’রোর্কের বলে ২৯০ রানে অষ্টম উইকেট হারালো বাংলাদেশ। দুই বল পর রিশাদ হোসেন টম ব্লান্ডেলের ক্যাচ হন। পরের বলে হাসান মাহমুদকেও ফেরান কিউই পেসার। তাতে ২৯১ রানে অলআউট বাংলাদেশ। ও’রোর্ক এক ওভারে নিলেন তিন উইকেট।

তানজিমের বিদায়ের পর তামিমকে ছাড়ালেন সৌম্য

৫৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন সৌম্য সরকার। ওখানেই থামেননি ১১৬ বলে তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান। ক্যারিয়ারে প্রথমবার দেড়শও করে ফেললেন আর ২৮ বল খেলে। জ্যাকব ডাফির বলে ৪৭তম ওভারে চার মেরে দেড়শ ছাড়ান সৌম্য। ১৪৪ বলের ইনিংসে ছিল ২০ চার ও ১ ছয়। লিটন দাস ও তামিম ইকবালের পর তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ১৫০ রান করলেন বাঁহাতি ব্যাটার। ওয়ানডেতে সেরা বাংলাদেশি ব্যাটারের তালিকায় দুই নম্বরে উঠে গেলেন সৌম্য। পেছনে ফেলেছেন তামিম ইকবালের ১৫৮ ও ১৫৪ রানের ইনিংসকে। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে চার মেরে এই কীর্তি গড়েন বাঁহাতি ব্যাটার। তার আগের বলে জশ ক্লার্কসনের কাছে উইকেট হারান তানজিম হাসান সাকিব। ১২ রান করে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে আদিত্য অশোকের ক্যাচ হন।  

সৌম্যর ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসের পর আউট মিরাজ

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম ম্যাচে সৌম্য সরকার করেছিলেন প্রথম সেঞ্চুরি। ২০১৫ সালের এপ্রিলে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ১২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। পরের শতক করতে লেগেছে তিন বছর। বুধবার নেলসনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় সেঞ্চুরি করলেন আরও পাঁচ বছর পর এবং ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকে। সৌম্য তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস খেললেন। ৪৪তম ওভারে টানা চার মেরে ১২৭ রানের ইনিংসকে পেছনে ফেলেন বাঁহাতি ব্যাটার। আদিত্য অশোকের ওই ওভারে ষষ্ঠ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ ক্যাচ তুলে দেন উইল ইয়াংয়ের হাতে। ২৬ বলে ১৯ রান করেন তিনি। ২৩২ রানে বাংলাদেশ হারায় ৬ উইকেট। এই জুটি করে ৬১ রান। 

পাঁচ বছর পর সৌম্যর সেঞ্চুরি

সমালোচনা শুনতে শুনতে হারিয়ে যাননি সৌম্য সরকার। নিউজিল্যান্ডে ভালো পারফরম্যান্স করেন বলেই দলে ঢোকা তার। প্রথম ম্যাচে ডাক মারলেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আস্থার প্রতিদান দিলেন সেঞ্চুরি করে। তিনবার জীবন পেয়ে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করলেন তিনি। ৫১ রানে রাচিন রবীন্দ্র, ৫৮ রানে অ্যাডাম মিলনে ও ৯৩ রানে উইল ইয়াংয়ের হাতে জীবন পান সৌম্য।

১১৬ বলে ১৩ চারে ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতকের দেখা পেলেন সৌম্য, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর। ২০১৮ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ সেঞ্চুরি ছিল তার। প্রথম সেঞ্চুরি মিরপুরে। এবার দেশের বাইরে তিন অঙ্কের জাদুকরি ফিগারের দেখা পেলেন বাঁহাতি ব্যাটার। ৪০তম ওভারে আদিত্য অশোকের প্রথম বল থার্ড ম্যান অঞ্চলে পাঠিয়ে সিঙ্গেল নিয়ে সেঞ্চুরি উদযাপন করেছেন সৌম্য। ৪১তম ওভারে টানা চার মেরে দলীয় স্কোর দুইশ পার করেন তিনি। 

হাফ সেঞ্চুরি হলো না মুশফিকের

দারুণ ছন্দে ফিরেছিল বাংলাদেশ। সৌম্য সরকারের সঙ্গে মুশফিকুর রহিম ৮০ রানে চার উইকেট হারানোর ক্ষত সারিয় তুলছিলেন। হাফ সেঞ্চুরির পথে ছিলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। কিন্তু ৫ রান দূর থাকতে টম ব্লান্ডেলের গ্লাভসে ধরা পড়লেন মুশফিক। ৫৭ বলে ৫ চারে ৪৫ রান করেন তিনি। তাকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান জ্যাকব ডাফি। ১৭১ রানে ৫ উইকেট হারালো সফরকারীরা। দুজনের জুটি ছিল ৯১ রানের।

সৌম্য-মুশফিকের জুটিতে বাংলাদেশের স্বস্তি

৮০ রানে চার উইকেট হারানো বাংলাদেশকে নিরাপদ অবস্থানে রেখেছেন সৌম্য সরকার ও মুশফিকুর রহিম। এরই মধ্যে তাদের জুট সত্তর রান ছাড়িয়ে গেছে। ৩২ ওভারে সফরকারীদের স্কোর চার উইকেটে ১৫৮ রান।

সৌম্যর হাফ সেঞ্চুরির পর বাংলাদেশের একশ

সৌম্য সরকার বারবার সুযোগ পেয়েও রানের দেখা পাননি। ওয়ানডেতে ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেন ৬৯ রান। তারপর ৬ ইনিংস খেলে সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন। স্বাভাবিকভাবে সমালোচিত হতে থাকেন তিনি। অবশেষে স্বস্তিদায়ক ইনিংস খেললেন বাঁহাতি ব্যাটার।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও ক্যারিয়ারের ১২তম হাফ সেঞ্চুরি করেছেন সৌম্য। ২১তম ওভারের প্রথম বলে নবম চার মেরে পঞ্চাশ পেরিয়ে যান তিনি।

২৩তম ওভারে বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে একশ রান জমা করলো। জশ ক্লার্কসনের চতুর্থ বলে সিঙ্গেল নিয়ে স্কোর তিন অঙ্কের ঘরে নেন সৌম্য সরকার। 

রান আউট হৃদয়

দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হলেন তাওহীদ হৃদয়। জশ ক্লার্কসনের বল স্ট্রেটে মারেন সৌম্য সরকার। বল থামাতে নিচু হন নিউজিল্যান্ড বোলার। তার আঙুলে বল ছুঁয়ে বোলার প্রান্তের স্টাম্পে আঘাত করে। হৃদয় ছিলেন ক্রিজের বাইরে। দলগত ৮০ রানে চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১৬ বলে ১২ রান করেন হৃদয়। ছিল না কোনও বাউন্ডারি। দুজনের জুটি ছিল ৩৬ রানের।

সৌম্য-হৃদয় জুটির প্রতিরোধ

১৫ ওভার শেষে পানি পানের বিরতি। নেলসনে নিউজিল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেট তুলে নেওয়ার পর বাংলাদেশ প্রতিরোধ গড়েছে। দারুণ ব্যাটিংয়ে সৌম্য সরকার রানের চাকা সচল রেখেছেন। ৪৪ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি গড়তে তাকে সহায়তা করেছেন তাওহীদ হৃদয়। ৩ উইকেটে ৭১ রান সফরকারীদের।

তিন উইকেট হারিয়ে পাওয়ার প্লে শেষ করলো বাংলাদেশ

সৌম্য সরকার একপ্রান্ত আগলে রেখে রান তুলছেন। অন্য দিকের ব্যাটাররা টিকতে পারছেন না। এনামুল হক বিজয় ও নাজমুল হোসেন শান্তর পর পাওয়ার প্লেতে আরেকটি উইকেট হারালো বাংলাদেশ। দলগত ৪৪ রানে লিটন দাস ফিরে গেলেন। জ্যাকব ডাফি তার টানা দ্বিতীয় ওভারে উইকেট শিকার করলেন। ১১ বলে ৬ রান করে পয়েন্টে উইল ইয়াংয়ের সহজ ক্যাচ হন লিটন। আগের বলে চার মেরেছিলেন তিনি। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৪৪ রান।

সৌম্যর ঝড়ো ইনিংসের মাঝে শান্তর বিদায়

নিউজিল্যান্ডে প্রথম ম্যাচে ডাক মারা সৌম্য সরকার নেলসনে ব্যাট হাতে ঝড়ো ইনিংস খেলছেন। দ্বিতীয় বলে চার মেরে রানের খাতা খোলেন তিনি। একই মানসিকতা নিয়ে খেলে যাচ্ছেন। সপ্তম ওভারে উইলিয়াম ও’রোর্কের বলে তিনটি চার আদায় করেন। তবে বড় জুটি গড়তে পারছেন না কেউই। এনামুল হক বিজয়ের পর বিদায় নিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। অষ্টম ওভারে জ্যাকব ডাফির বলে কভার পয়েন্টে হেনরি নিকোলসের সহজ ক্যাচ হন তিনি। ৯ বলে ৬ রান করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ৩৬ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন, ভাঙলো ২৫ রানের জুটি। 

ল্যাথামকে ক্যাচ দিলেন বিজয়

আগের ম্যাচে আশা জাগানিয়া ব্যাটিং করেছিলেন এনামুল হক বিজয়। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে করলেন মাত্র ২ রান। পঞ্চম ওভারে অ্যাডাম মিলনের প্রথম বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে টম ল্যাথামকে ক্যাচ দিলেন বাংলাদেশি ওপেনার। ১২ বল খেলেন তিনি।

সৌম্য সরকারের সঙ্গে বিজয়ের জুটি মাত্র ১১ রানের।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

নেলসনে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে। টসে জিতেছে স্বাগতিকরা। তারা আগে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আগের একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। রিশাদ হোসেন ও তানজিম হাসান সাকিব খেলছেন। আফিফ হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান বাদ পড়েছেন। গত মার্চে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় রিশাদের, এবার ওয়ানডে ক্যাপও পেয়ে গেলেন তিনি।

নিউজিল্যান্ড দলে একটি পরিবর্তন। স্পিনার ইশ সোধির পরিবর্তে আন্তর্জাতিক অভিষেক হচ্ছে আদিত্য অশোকের।

বাংলাদেশ স্কোয়াড: এনামুল হক বিজয়, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম (উইকেটকিপার), তাওহীদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, তানজিম হাসান সাকিব।

নিউজিল্যান্ড স্কোয়াড: উইল ইয়াং, রাচিন রবীন্দ্র, হেনরি নিকোলস, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), মার্ক চাপম্যান, জশ ক্লার্কসন, টম ব্লান্ডেল, অ্যাডাম মিলনে, আদিত্য অশোক, জ্যাকব ডাফি ও উইলিয়াম ও’রোর্ক।