তফসিলকে ঘিরে বাড়ানো হয়েছে সচিবালয়ের নিরাপত্তা


Md Firoj প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৫, ২০২৩, ১২:৪৫ অপরাহ্ন /
তফসিলকে ঘিরে বাড়ানো হয়েছে সচিবালয়ের নিরাপত্তা

বুধবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ের বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারের প্রধান প্রশাসনিক দফতর বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তা অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত করা হয়েছে। সাদা পোশাকে নিয়োজিত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন সতর্কতার সঙ্গে। 

জানা গেছে, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবে বলে আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একইসঙ্গে চোরাগোপ্তা হামলা ও বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তারা। এসব কারণেই সচিবালয়ের নিরাপত্তা আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়ানো হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।     

জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির ডাকা মহাসমাবেশ ভণ্ডুল, পুলিশের লাঠিচার্জ,  নেতাকর্মীদের মারধর ও গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে উত্তেজিত বিএনপি প্রথমে হরতাল ও পরে দফায় দফায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। এসব কর্মসূচির শুরু থেকেই সচিবালয়কে বাড়তি নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রাখা হয়েছে। সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য একমাত্র দুই নম্বর গেট এবং এই গেটের সংলগ্ন অভ্যর্থনা কেন্দ্রটি খোলা রেখে বাকি সব গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নবনির্মিত অর্থভবন (১১ নম্বর ভবন) সংলগ্ন মুক্তাঙ্গনের সামনের গেটটি সবসময় খোলা রাখা হলেও ২৯ অক্টোবর থেকে সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।     

বুধবার (১৫ নভেম্বর) সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে গেছে—এতদিন সচিবালয়ে আগত দর্শনার্থীরা পাস দেখিয়ে ভেতরে ঢুকতে পারলেও এখন আর তা পারছেন না। তাদের শরীর তল্লাশি ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করা হচ্ছে। এরপর ভেতরে ঢোকার অনুমতি মিলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত করা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বুধবার বিকাল ৫টার পর সচিবালয়ের গেটে বিজিবি সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। এছাড়া সকাল থেকে সচিবালয়ের সামনের গেটে র‌্যাবের কয়েকটি গাড়ি টহল দিতে দেখা যায়। 

এ বিষয়ে সচিবালয়ে দায়িত্বরত পুলিশের একজন সদস্য জানিয়েছেন, অন্যান্য দিনের মতোই দায়িত্বপ্রাপ্তরা তৎপর রয়েছেন। হরতাল আর অবরোধকে কেন্দ্র করে এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তা আরও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজ নিতে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবন পরিদর্শন করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান। এর আগে তিনি সচিবালয়ের আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ঘুরে দেখে গেছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার দুপুরে নির্বাচন ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘তফসিলকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন ও নগরবাসীর নিরাপত্তা বিধানের জন্য যেসব কাজ পুলিশের করা দরকার, বিশেষ সিকিউরিটি চেকআপ, নিরাপত্তা তল্লাশি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার জন্য এসেছি। নিরাপত্তা নিশ্চিতে যা যা করা দরকার, সব করবে পুলিশ।’

জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার আগেই সারা দেশে বিরোধী দলগুলো বিক্ষোভ শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহে ডাকতে পারে হরতাল—এমন আভাসও পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতোমধ্যে বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত দলগুলোর পঞ্চম দফা অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিন চলমান থাকায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করার সিদ্ধান্ত প্রায় গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই দলগুলোর মধ্যে রয়েছে জামায়াত, বাম গণতান্ত্রিক জোট, ইসলামী আন্দোলনসহ আরও কিছু দল। এছাড়া তফসিল বাতিলের দাবিতে আগামী রবিবার (১৯ নভেম্বর) ও সোমবার (২০ নভেম্বর) হরতাল ডাকতে পারে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। বিএনপি, জামায়াত, গণতন্ত্র মঞ্চ, এবি পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে পুলিশ বাধা দেবে না। তবে সেখানে রাষ্ট্রের জানমালের হুমকি থাকলে পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করবে।’ তিনি জানান, রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ সব নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সে দায়িত্বই পালন করছে।’