নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন চমক পুঁথি গান!


Md Firoj প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৭, ২০২৩, ১২:৪৬ অপরাহ্ন /
নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন চমক পুঁথি গান!

বিনোদন রিপোর্ট

শোন শোন শোন ভাই বোনেরা শোন দিয়া মন, নৌকা নিয়া নামতে হইবো সামনে ইলেকশন- শোন মন দিয়া/ আবার ইলেকশনে চলো যাই নৌকায় দেবো ভোট, প্রার্থী আমার আপন মানুষ পরা মুজিব কোট- পুরা আমার মতো। কথাগুলো পড়ে আসলে খুব বেশি টের পাওয়া যাবে না, যতোটা স্মৃতিকাতর হতে হয় সুরটা শুনে। কারণ, এটি তো আসলে সুর নয়; মূলত বাংলা সংস্কৃতির লোকায়ত প্রতিধ্বনি। বলা যেতে পারে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুবাদে বাংলার অন্যতম লোকসংস্কৃতির অংশ পুঁথি গান ফিরে এসেছে আধুনিক বাংলাদেশে।

শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকে ‘আমরা আছি মাঠে’ নামের এই পুঁথি গান ভাইরাল হলো সোশ্যাল হ্যান্ডেলে। কাজটির সূত্র ধরে শ্রোতারা যেন ফিরে গেলেন শৈশবের গ্রাম-গঞ্জের চেনাসুরে। সঙ্গে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ভিডিওচিত্র, যার মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়নের দৃষ্টিনন্দন চিত্র।

চাঞ্চল্যকর এই প্রজেক্টটি আলোর মুখ দেখেছে মূলত চারজন মানুষের যৌথ উদ্যোগে। যার শুরুটা হয় যুক্তরাষ্ট্রে এক আড্ডা থেকে। সূত্রধর ছিলেন সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সংস্কৃতি জগতের অন্যতম মুখ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন। তার ভাষায়, ‘গত নির্বাচনের মতো, এই নির্বাচন নিয়েও নতুন কিছু করার চিন্তা ছিলো মাথায়। এরই অংশ হিসাবে, এবার গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি পুঁথি-গান বানানোর পরিকল্পনা করলাম। সেটি লেখার জন্য যাকে বললাম, তিনি বিখ্যাত গীতিকবি জুলফিকার রাসেল। সমস্যা হলো, তিনি আগে কখনোই পুঁথি লেখেননি। একটু আইডিয়া দেয়ার পর, এক রাতের মধ্যেই তিনি যা লিখলেন, তাতে আমি মুগ্ধ ও অভিভূত। আবারও নিজের জাত চেনালেন তিনি।’

না, পুঁথি গানটির জন্মরহস্য এখনও বাকি আছে। পুরোটা শোনা যাক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকবি জুলফিকার রাসেলের মুখে। তিনি বলেন, ‘‘প্রথম পুঁথি লিখলাম। নিউইয়র্কে এক আড্ডায় আশরাফুল আলম খোকন ভাই বললেন, সামনে ইলেকশন। আওয়ামী লীগের জন্য নির্বাচনী প্রচারণার জন্য একটা বিশেষ গান করতে চান। তবে সেটা নতুন কিছু হতে হবে! কিন্তু নতুন কোনও আইডিয়া আমাদের কারও মাথায় আসছিলো না! তার মাথা পরিষ্কার! হঠাৎ তিনি বললেন, ‘গ্রাম বাংলার মানুষের ঐতিহ্য হচ্ছে পুঁথি, সেই পুঁথিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে উপস্থাপন করতে হবে আধুনিকভাবে। কেমন হবে ব্যাপারটা?’ আমার কাছে আইডিয়াটা দারুণ লাগলো। অতি উৎসাহ নিয়ে ওই রাতেই লিখে ফেললাম। টেক্সট করে পাঠিয়েও দিলাম। পরদিন খোকন ভাই ও তার বন্ধু মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে এলেন। আমার কণ্ঠে সুর নেই। গাইতে পারি না! তবুও আমাকে দিয়ে লেখাগুলো পুঁথির সুরে পাঠ করালেন। ফোনে রেকর্ড করে পাঠিয়ে দিলেন গুণী সংগীত পরিচালক ইমন চৌধুরীকে। বাকিটা শুনে এখন আপনারাই বলবেন, আমাদের চেষ্টা কতটুকু সফল হলো!’’

গানটির সংগীত পরিচালনা করেছেন দেশের অন্যতম সংগীতমুখ ইমন চৌধুরী। যাকে অনেকেই বলে থাকেন ‘ম্যাজিশিয়ান অব বাংলা মিউজিক’। ইমন জানান, গানটি তৈরির জন্য দুই মাস সময় নিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে থেকে খাঁটি শিল্পী ও যন্ত্রীদের এনে পুরো কাজটি শেষ করেছেন। লোকজ ঘরানার কাজটি করতে পেরে তিনি তৃপ্ত।

এদিকে গানটি তৈরি হওয়ার পর আরও একটি বড় কাজ বাকি ছিলো। কথার রেশ ধরে পুরো বাংলাদেশের ছবি ধারণ করা এবং সাজানো কম কঠিন নয়। সেই জটিল কাজটির দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন নির্মাতা পিকলু চৌধুরী। তার ভাষায়, ‘আমরা যখন কাজটির শুট নিয়ে মাঠে নামি তখন চরম বৈরি আবহাওয়া। বলা যায়, ঝড়-বৃষ্টির প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আমরা সবাই চেষ্টা করেছি সমগ্র বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরতে। বাকিটা দর্শকদের রায়।’ 
 
বলা দরকার, ‘আমরা আছি মাঠে’ পুঁথি গানটি সব শ্রোতা/দর্শকদের জন্য কপিরাইট ফ্রি রাখা হয়েছে। ফলে যে কেউ এই গানটি সোশ্যাল হ্যান্ডেলে আপলোড করতে পারবেন নির্দ্বিধায়। জানান, গান সংশ্লিষ্টরা।