প্রচারণায় ‘ভাইরাল’র আশ্রয় নিলেন ফারুকীও, সঙ্গে নকলের অভিযোগ!


Md Firoj প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২১, ২০২৩, ২:৫৭ অপরাহ্ন /
প্রচারণায় ‘ভাইরাল’র আশ্রয় নিলেন ফারুকীও, সঙ্গে নকলের অভিযোগ!

আশ্রয় ডেস্ক

যুগটা সোশ্যাল মিডিয়ার। যেখানে ভাইরালই শেষ কথা। কোনও কনটেন্ট কিংবা ব্যক্তি তবেই সফল বিবেচিত হয়, যখন সেটা নিয়ে নেটের পাতায় আলোচনার ঝড় ওঠে, ভিউর সংখ্যা হয় স্বাস্থ্যবান। যদিও এই পুরো বিষয়টাই নাকি অস্বাস্থ্যকর, দাবি সমালোচকদের। তবুও শোবিজ জগতের শিল্পী, নির্মাতা, প্রযোজকদের অধিকাংশই এই দৌড়ে সামিল। গণমাধ্যমের সামনে লাগামহীন মন্তব্য থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অহেতুক কর্মকাণ্ড করার মাধ্যমে নিজেদের আলোচনায় বা চর্চায় রাখছেন তারা। যদিও বিপরীতে কটাক্ষ আর সমালোচনাই জোটে, কিন্তু এটাকেই ইদানীং ‘প্রচারণার মহৌষধ’ বলে বিশ্বাস করছেন অনেকে।

অবশ্য এর ভিড়েও শুধু কাজের মানের দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কেউ কেউ। সংখ্যায় কম হলেও কাজ নিয়ে তাদের আলাদা চিন্তা-দর্শন আছে। সে তালিকায় মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নাম থাকবে প্রথম দিকেই। যিনি লম্বা সময় ধরে শোবিজে কাজ করছেন সিরিয়াস গল্পে; স্রেফ বাণিজ্যের জন্য মশলাদার কিংবা চটকদার স্রোতে গা ভাসাননি।

অথচ জীবনের পঞ্চাশে এসে সেই ফারুকীই কিনা দ্বারস্থ হলেন সস্তা প্রচারণা কিংবা ভাইরালের! তাও নিজের ব্যক্তিগত জীবনের নির্যাস নিয়ে নির্মিত বিশেষতম সিনেমাটির জন্য। যে ছবিতে ফারুকী নিজেও প্রথমবার অভিনয় করলেন সস্ত্রীক। আগামী ৩০ নভেম্বর চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে তাদের ছবি ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’। যেটার টিজার-ট্রেলার ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে; আবার একাধিক আন্তর্জাতিক উৎসবে ছবিটি ইতিবাচক সাড়াও ফেলেছে।

কিন্তু এই ছবির প্রচারণার জন্য হাল শোবিজের সবচেয়ে ‘ভাইরাল’ কিংবা সমালোচিত ব্যক্তিদের সহযোগিতা নিলেন ফারুকী। সোমবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় একটি ভিডিও কনটেন্ট প্রকাশ করা হয় ছবিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চরকির পেজ থেকে। যেখানে দেখা যায়, একটি খোলামাঠে ডিরেক্টরের চেয়ারে বসে ‘অটোবায়োগ্রাফি’ ছবির মুক্তির প্রচারণা নিয়ে চিন্তিত ফারুকী। প্রথমে পাশে বসা মারজুক রাসেলের কাছে উপায় জানতে চান। তিনি বল পাস করে দেন পাশে বসা অভিনেতা-নির্মাতা আশুতোষ সুজনের দিকে। তিনি নিরুপায় হয়ে তার পাশে বসা অভিনেতা নাসির উদ্দিন খানের কাছে পরামর্শ চান। কিন্তু তার পাশে থাকা অভিনেতা-উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়কে ইঙ্গিত করে নাসির বলেন, ‘আরে আমি তো শিশু ভাইরাল। ভাইরালের বাপ বসে আছে এখানে। হেরে জিগাও।’

না, ‘ভাইরাল’ খোঁজার মিশনটা এখানেই শেষ হয়নি। কারণ জয় নিজেও এই ইস্যুতে সারেন্ডার করলেন। পাশে বসা জায়েদ খানকে দেখিয়ে বললেন, ‘সবসময় ভাইরালের বাপ দিয়ে কাজ হয় না। কারণ বাপেরও বাপ আছে। এই যে ভাইরালের দাদা (জায়েদ খান)। ভাই, আপনি বলে দিন কীভাবে কী করা যায়। পাঞ্জাবি পরে পারবেন তো ডিগবাজি দিতে?’

ব্যাস, ফারুকীর প্রচারণার জন্য কাঙ্ক্ষিত ভাইরালবয়ের দেখা মিললো। সাদা পাঞ্জাবিতে, সানগ্লাস পরা জায়েদ খান। বরাবরের মতো নিজের হাতে পরা দামি ঘড়ির ঢোল পেটালেন। আর ডিগবাজি প্রসঙ্গে বললেন, ‘যে পারে, সে কাপড়সহ পারে, কাপড় ছাড়াও পারে।’

অতঃপর খোলা মাঠে দুটো ডিগবাজি দিলেন জায়েদ খান। শেষে পাশে থাকা হ্যালিকপ্টারের পাদানিতে বসে দিলেন ফারুকীর ছবিটি নিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রচারণা বার্তা। সেটা এরকম “সবাইকে ৩০ নভেম্বর চোখ রাখতে হবে। না হলে এই ডিগবাজি দিয়ে যে কোনও সময়, যে কোনও ঘরের দরজা খুলে ঢুকে যাবো। বি কেয়ারফুল। ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ আসছে।’’

ভিডিওটি সোশ্যাল হ্যান্ডেলে শেয়ার করে জায়েদ খান জানালেন, এটি ধারণ করা হয়েছে নওগাঁ’র একটি মাঠে। তার ভাষায়, ‘‘আজকে নওগাঁ গিয়েছিলাম অনেকগুলা মাথা এক করে কিছু একটা ভাবতে। কী ভাবতে গেলাম, সেটা পরে বলবো। এই মুহূর্তে যেটা বলার সেটা হলো, আগামী ৩০ নভেম্বর মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ আসছে চরকি-তে! সবাইকে দেখার আমন্ত্রণ! এর পরে আরও অনেক কিছু আসবে।’’

ধারণা করা হচ্ছে, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ভাইরাল ভাবনা’ এখানেই শেষ হচ্ছে না। জয়-জায়েদ খানদের নিয়ে আসছে আরও কিছু।

এদিকে প্রচারণার এই ভিডিওটি দেখে অনেকে মজা পাচ্ছেন, হাসছেনও বটে। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরালও হলো। চারদিকে শুরু হলো রই রই ব্যাপার। যদিও কেউ কেউ ভ্রু কুঁচকে ভাবছেন, যে ফারুকীর নির্মাণে একাধিক তারকার উত্থান হয়েছে, যার হাত ধরে শোবিজে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন অনেক নির্মাতা; যে মানুষটি নিজের একমাত্র সন্তানের গল্প বলেছেন ছবিটির মাধ্যমে, ছুটে গেছেন নামকরা সব উৎসবে, সেই ফারুকীকেই কিনা শেষ পর্যন্ত প্রচারণার জন্য ‘ভাইরাল’ জয়-জায়েদের আশ্রয় নিতে হলো!

ফারুকীর প্রচারণার গল্পটি এখানে শেষ হলেই সম্ভবত স্বস্তির ছিলো। যে মানুষটার হাত ধরে এতো সব সিরিয়াস গল্প উঠে এসেছে টিভি হয়ে সিনেমার পর্দায়, বাংলা সিনেমাকে নিয়ে গেছেন আন্তর্জাতিক অধ্যায়ে; তাকে নিয়ে পরের সমালোচনাটা খানিকটা বেদনার বটে।

কারণ, ফারুকীর প্রচারণার এই ভিডিওকে ‘হুবহু নকল’ বলেও অভিযুক্ত করছেন অনেকে। শুধু অভিযোগই নয়, বাংলা ট্রিবিউন খুঁজে পেয়েছে এর খানিক সত্যতাও। কেননা এরকমই একটি প্রচারণা কনটেন্ট গত মার্চে প্রকাশ করেছিল ডিজনি প্লাস হটস্টার। সেখানে ‘পপ কৌন?’ ছবির প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন ছবিটির অভিনয়শিল্পীরা; যেমন- জনি লিভার, রাজপাল যাদব, সৌরভ শুক্লা, চাঙ্কি পাণ্ডে প্রমুখ। দুটো প্রচারণার চিত্রনাট্য প্রায় একই। শুধু জায়েদ খানের ডিগবাজিটা বাড়তি পাওনা! সেটিও অবশ্য এরমধ্যে জায়েদ খানের দৌলতে পুরনো ভাইরাল ইস্যু, যা ফারুকী কাজে লাগিয়েছেন নিজের জন্যেও। 

কিন্তু এমন দুটি গুরুতর আপত্তিতে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মন্তব্য আসলে কী? সেটির জবাবও জানতে চেয়েছে বাংলা ট্রিবিউন। উত্তর মেলেনি। অব দ্য রেকর্ড অনেক কথা বললেও, অন রেকর্ডে বললেন, ‘নো কমেন্টস!’

‘ভাইরাল’ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য না করলেও ছবিটি সম্পর্কে ফারুকী আগেই বলেছিলেন, ‘আমার কন্যা ইলহাম যখন বড় হবে এবং ছবিটি দেখার সুযোগ পাবে, আশা করি সে তার কানে ফিসফিস করে আমাকে বলতে শুনবে– তুমি এই পৃথিবীতেই এসেছো। এখানে পরিবর্তন আনার যথাসাধ্য চেষ্টা করো, যাতে তুমি যেখানে এসেছো তার চেয়ে ভিন্ন পৃথিবীতে তোমার সন্তানেরা আসতে পারে।’

‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’তে ফারুকী-তিশা ছাড়াও অভিনয় করেছেন ডিপজল, ইরেশ যাকের, ডলি জহুর, শরাফ আহমেদ জীবন প্রমুখ।

ছবিটি নির্মিত হয়েছে চরকির বিশেষ আয়োজন ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’র অংশ হিসেবে। এতে ১২ জন নির্মাতা ভালোবাসার গল্প নিয়ে ১২টি সিনেমা বানাচ্ছেন। পুরো প্রজেক্টের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ফারুকী। আর তিনি নিজেও দুটি সিনেমা বানিয়েছেন। একটি এই ‘অটোবায়োগ্রাফি’, অন্যটির নাম ‘মনোগামী’।