শিক্ষার্থীদের দেশ ও সমাজে ভূমিকা রাখার স্বপ্ন দেখতে হবে


Md Firoj প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৫, ২০২৩, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন /
শিক্ষার্থীদের দেশ ও সমাজে ভূমিকা রাখার স্বপ্ন দেখতে হবে

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সামনে উন্নত স্বপ্ন থাকতে হবে। সেই স্বপ্ন শুধু ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য নয়, দেশ ও সমাজে ভূমিকা রাখার স্বপ্নও দেখতে হবে। দেশ ও সমাজের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারলেই তারা সুশিক্ষিত হয়ে গড়ে উঠবে।

রবিবার (৫ নভেম্বর) কুমিল্লার কোর্টবাড়িতে সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বকালে তিনি এ কথা বলেন।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘যেকোনও মানুষের জীবনের সবচেয়ে চমৎকার অধ্যায় হলো শিক্ষাজীবন। তারুণ্যের উচ্ছলতায় পরিপূর্ণ এই সময়ে শিক্ষার্থীরা নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে। পাশাপাশি জীবন গঠনে মনোনিবেশ করে থাকে। শিক্ষাজীবনে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হয়।’

আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উৎকর্ষতা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘মার্ক জাকারবার্গ, জেফ বাজোস, স্টিভ জবস, ইলন মাস্ক কিংবা জ্যাক মা প্রযুক্তির দক্ষতা ও উদ্ভাবন কাজে লাগিয়ে বিশ্বে নিজেদের সুনাম ও অবস্থান অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য আজ শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের যেকোনও অঞ্চলে বসবাস করে প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী করতে পারছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা চাকরির পেছনে না ছুটে প্রযুক্তি বিষয়ক উদ্যোক্তা হবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের অনেক বিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের দক্ষ মানুষজন।’

বাংলাদেশ অনুন্নত দেশ থেকে আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছেছে জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকার যখন ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে, তখন দেশে জিডিপির আকার ছিল ৪৭ বিলিয়ন ডলার, আজ তা ৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বের ফলে দেশের অর্থনৈতিক এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।’

২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের পৃথিবীতে দখলদারিত্বের মাধ্যমে কেউ রাজত্ব করতে পারে না। জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিতে হয়।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাসহ ২১০০ সালের মধ্যে ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্যই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

সমাবর্তনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিন, সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল শ্রী সিদ্ধার্থ শংকর দে, কুমিল্লা ৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন, গেস্ট অব অনার হিসাবে ছিলেন রিপাবলিক অব মালদ্বীপের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আবদুল্লা রাশিদ আহমেদ।