অবশেষে প্রকাশ্যে এলেন চট্টগ্রাম বিএনপির নেতারা


Md Firoj প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১০, ২০২৩, ৩:৩৫ অপরাহ্ন /
অবশেষে প্রকাশ্যে এলেন চট্টগ্রাম বিএনপির নেতারা

আশ্রয় ডেস্ক

অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছেন চট্টগ্রাম বিএনপির নেতারা। রবিবার (১০ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে এলেন ‘আত্মগোপনে’ থাকা এসব নেতা। 

বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ জেলা শাখা ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চট্টগ্রাম শাখার আহ্বায়ক জাহিদুল করিম।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, ইয়াছিন চৌধুরী, আবদুস সাত্তার, কাজী বেলাল ও এম এ মান্নান, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম, মহানগর বিএনপি দফতরের দায়িত্বে থাকা ইদ্রিস আলী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন ও নুরুল আমিন প্রমুখ।

গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির ঢাকার মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর থেকে পুলিশের অভিযানের মুখে আত্মগোপনে চলে যান জেলার শীর্ষ নেতারা। এমনকি এতদিন চট্টগ্রাম বিএনপির কার্যালয় খোলা হয়নি। তবে মাঝেমধ্যে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন তারা। আন্দোলনে কঠোর কোনও কর্মসূচি পালন করেননি তারা। এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের দাবি, ২৮ অক্টোবরের পর থেকে চট্টগ্রাম বিএনপির অন্তত এক হাজার ২০০ নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। এ অবস্থায় রাস্তায় নামতে পারেননি তারা। গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে থেকে ঝটিকা মিছিল করে কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন নেতাকর্মীরা। 

মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে মানবতা ও মানবাধিকারের কোনও মূল্য নেই। আওয়ামী লীগ সরকার এখন ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য স্বৈরাচার শাসকে পরিণত হয়েছে। তারা দেশ থেকে ন্যায়বিচার দূর করে দিয়েছে। সরকার নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমনের চেষ্টা করছে। তারা দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। বিশ্ব মানবাধিকার দিবস শুধু একদিন নয়, সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকারীদের জন্য এখন প্রতিদিন মানবাধিকার দিবসে পরিণত হয়েছে। আজকে গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিরা তাদের কথা বলতে পারেন না। মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে সরকার রাষ্ট্র শক্তি ব্যবহার করে এমনভাবে টিকে থাকতে চায়, যাতে তাদের অপরাধের বিরুদ্ধে কেউ কোনও শব্দ করতে না পারে। দেশের জনগণ, সব বিরোধী দলের বিরোধিতা এবং আন্তর্জাতিক মহলের আহ্বান উপেক্ষা করে সরকার একতরফা প্রহসনের নির্বাচন করার আত্মঘাতী খেলায় মেতেছে। আওয়ামী লুটেরা চক্র এবং তাদের দোসররা এখন এমপি হওয়ার জন্য জনগণের কাছে নয়, গণভবনের দিকে ছুটছেন। শেখ হাসিনার একগুঁয়েমি দেখে মনে হচ্ছে, এইটা কোনও নির্বাচন নয়, বানরের পিঠা ভাগাভাগির সিলেকশন।’

মানববন্ধনে চট্টগ্রামে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং মামলা-হামলার শিকার বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

২৮ অক্টোবরের পর থেকে চট্টগ্রামে বিএনপির এক হাজার ২০০ নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন দাবি করে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এখন বিএনপির নেতাকর্মীরা বাসায় থাকতে পারছেন না। প্রায় সবাই পলাতক।’