আমাদের দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে আবারও দেশের প্রধানমন্ত্রী করা: কাজী নাবিল


Md Firoj প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৩, ২০২৩, ২:৫০ অপরাহ্ন /
আমাদের দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে আবারও দেশের প্রধানমন্ত্রী করা: কাজী নাবিল

যশোর প্রতিনিধি

নির্বাচনি পথসভায় যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, ‘আগামী মাসের ৭ তারিখে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হচ্ছে। আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে আসীন করে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখা।’

শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকালে যশোর‌ সদরের হৈবতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বারীনগর বাজারে আয়োজিত নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন হৈবতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল হক বিশ্বাস।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলের ফিরিস্তি তুলে ধরে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল বলেন, ‘সেই সময়ে দেশের অবস্থা কেমন ছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট দেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল। তাদের শাসনকাল ছিল সিরিজ বোমার বাংলাদেশ, বাংলা ভাইয়ের বাংলাদেশ, গ্রেনেড হামলার বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশকে অন্ধকারের কূপ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। এখন বাংলাদেশ হচ্ছে স্বস্তির বাংলাদেশ, উন্নয়নের রোল মডেলের বাংলাদেশ।’

বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান চিহ্নিত করে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আরও বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃসেবা, শিশুমৃত্যু রোধ ছাড়াও বিদ্যুতায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি, শিল্পসহ সকল ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। আজ আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সূচকে আমরা প্রতিবেশী ভারত-পাকিস্তানকেও অতিক্রম করে গেছি।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় এসে জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন, আমরা ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবো, ইতোমধ্যে তা বাস্তবায়ন হয়েছে। তিনি একের পর এক দেশে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন।’

যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সেতু নির্মাণের ফলে আমাদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। যশোরে ইতোমধ্যে একটি অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।’

দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা হিসেবে যশোরের অবস্থান তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জেলাকেই প্রথম ডিজিটাল জেলা হিসেবে ঘোষণা দেন। এই জেলায় তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছেন। দিয়েছেন একটি মেডিক্যাল কলেজ। শেখ হাসিনা সফটওয়্যার আইটি পার্ক, ভৈরব নদ খননসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।’

পথসভায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের বক্তব্যে এই অঞ্চলের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছর আমি আপনাদের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা আমার অত্যন্ত কাছের মানুষ-স্বজন। এখানে এখনও কিছু রাস্তার কাজ বাকি রয়েছে। আপনাদের দোয়া ও আশীর্বাদ থাকলে আগামী মেয়াদে সেই সব কাজ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করছি।’

পথসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম খয়রাত হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন, জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক সুখেন মজুমদার, জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল, সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অশোক বোস, যবিপ্রবির শেখ হাসিনা হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমাইরা আজমীরা এরিন, হৈবতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক প্রমুখ।

বক্তৃতাকালে নেতৃবৃন্দ ৭ জানুয়ারির ভোটের দিন এলাকার সর্বোচ্চসংখ্যক ভোটার উপস্থিত এবং দেশের স্বাধীনতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের মার্কা নৌকাকে বিজয়ী করতে সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনার আশ্বাস দেন।

বিকালের পথসভার আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ যশোর শহরের পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় গণসংযোগ করেন। ওই সময় তিনি পথচারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমিক, দিনমজুরদের সঙ্গে কুশল বিনিময়সহ দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন এবং লিফলেট বিতরণ করেন। এরপর দুপুরে তিনি সদরের ফতেপুর ইউনিয়নে লালু ফকিরের মাজার জিয়ারত করেন।

সন্ধ্যা ৬টায় যশোর টাউন হল মাঠের রওশন আলী মঞ্চে জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী বর্ণ উত্তম আয়োজিত জয় বাংলা কনসার্টে অংশ নেন এবং কিছু সময় অবস্থান করে সংগীত ও নৃত্য উপভোগ করেন।

এরপর সেখান থেকে তিনি যশোর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পালবাড়ি মোড়ে নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।