এমপি সামশুল হকের অভিযোগ, যেখানে যাচ্ছি নৌকার কর্মীরা হামলা করছেন


Md Firoj প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২১, ২০২৩, ৩:২০ অপরাহ্ন /
এমপি সামশুল হকের অভিযোগ, যেখানে যাচ্ছি নৌকার কর্মীরা হামলা করছেন

আশ্রয় ডেস্ক

জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, ‘আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা আমার প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন। যেখানে কর্মী-সমর্থক নিয়ে গণসংযোগে যাচ্ছি, সেখানেই হামলার শিকার হচ্ছি। নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর করছেন নৌকার কর্মীরা। এতে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এসব বন্ধ না হলে ৭ জানুয়ারি কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমে যাবে।’

বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। আওয়ামী লীগের বর্তমান এই সংসদ সদস্য দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধা, কর্মীদের ওপর হামলা, সহিংসতা ও গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সামশুল হক বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাদের অনুমতি দিয়েছেন দলের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে এবং প্রার্থীর জনপ্রিয়তা যাচাই করতে এই সুযোগ দেশের ইতিহাসে আর আসেনি। অথচ আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলামের অনুসারী কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী শুরু থেকে আমার প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিয়ে আসছেন। মোতাহেরের সন্ত্রাসীরা গত এক সপ্তাহ ধরে পটিয়ায় রীতিমতো তাণ্ডব শুরু করেছেন। অথচ আমি শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। আমার গণসংযোগে সাধারণ মানুষের বিপুল উপস্থিতির ঢল দেখে মোতাহেরুল ইসলাম সহিংসতার পথ বেচে নিয়েছেন।’ 

তিনি অভিযোগ করেন, ‘গত সোমবার পটিয়ার একটি কমিউনিটি সেন্টারে অফিস উদ্বোধন, সংবাদ সম্মেলন ও আমার সমর্থনে একটি কর্মী-সমাবেশ ছিল। সমাবেশে যাওয়ার পথে ইন্দ্ৰপুল বাইপাস মোড় ও হাবিলাসদ্বীপের পাঁচুরিয়া এলাকায় আমার সমর্থকদের ওপর হামলা করেন মোতাহেরুল ইসলামের অনুসারীরা। রাতে জিরি ফকিরা মসজিদ এলাকায় আমার নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়। কর্মীদের পিটিয়ে আহত করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শান্তিরহাট ও কুসুমপুরা এলাকায় আমার একাধিক নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়। বাকখাইন এলাকায় আমাদের একটি প্রচার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এমনকি প্রচার গাড়ির চালকের ওপর হামলা করেছেন তারা। মঙ্গলবার রাতে মোতাহেরুল ইসলামের সামনে মঈনুদ্দিন নামে আমার সমর্থককে বেধড়ক মারধর করেন তার অনুসারীরা। মেহেরআটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাত ৮টায় ওই ঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন ও পৌরসভার নেতাকর্মীদের বাড়িতে সন্ত্রাসী পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

সামশুল হক আরও অভিযোগ করেন, ‘বুধবার বিকালে আমি পটিয়ার কাশিয়াইশ ইউনিয়নে গণসংযোগে গেলে সেখানে কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করেন মোতাহেরুল ইসলামের অনুসারীরা। তারা আমার প্রচারণার ছয়-সাতটি গাড়ির টায়ার কেটে দেন। প্রকাশ্যে রামদা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। একজন ইউপি চেয়ারম্যান এই হামলার নেতৃত্ব দেন। আমরা এসব ঘটনা নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। একটি ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা করা হয়েছে। ভোট যতই ঘনিয়ে আসছে নৌকার অনুসারীরা ততই বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে মোতাহের ও তার অনুসারীদের এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের অনুরোধ জানাচ্ছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানাই।’