ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’, জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা


Md Firoj প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৬, ২০২৩, ৩:৩৬ অপরাহ্ন /
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’, জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা গভীর নিম্নচাপটি বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) রাত ১২টার পরে থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’তে রূপ নেবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক হুমায়ন কবির জানান, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ৩ থেকে ৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে জেলার ২৭০টি আশ্রয়ণকেন্দ্রের পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বিতল মসজিদ, পাকা স্থাপনাসহ সহস্রাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিকল্প আশ্রয়ণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সাতক্ষীরা উপকূলের আশাশুনি, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জে বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারসহ পর্যাপ্ত জিও বালুর বস্তা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের ঝড়ের আগেই সংকেত অনুযায়ী মানুষকে নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত করা; পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও খাওয়ার পানি মজুত রাখা; দুর্যোগকালে ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শ্যামনগর উপজেলায় ২ হাজার ৯৮০ জন এবং আশাশুনি উপজেলায় ১ হাজার ২০ জন সিপিপি সদস্য এবং রেডক্রিসেন্ট ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ার আগে প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ, শিশু ও গর্ভবতী নারীসহ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর এবং শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে উদ্ধারকারী নৌযান হিসেবে স্পিডবোট, প্রয়োজনীয়সংখ্যক ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রলার এবং স্থলযান প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের ঝড়ের পরে রাস্তায় গাছ পড়লে তা অপসারণে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

সভায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।