শীতে কাঁপছে সারা দেশ, তাপমাত্রা নামলো ৮.৮ ডিগ্রিতে


Md Firoj প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৩, ২০২৪, ৪:১১ অপরাহ্ন /
শীতে কাঁপছে সারা দেশ, তাপমাত্রা নামলো ৮.৮ ডিগ্রিতে

দিনাজপুর প্রতিনিধি

শেষের দিকে পৌষ। শীত ঋতুর প্রথম মাসটির শেষের দিকে সারা দেশে তীব্রভাবে জেঁকে বসেছে শীত। শনিবার (১৩ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে উত্তরের জেলা দিনাজপুরে। যেটি এই জেলার এই মৌসুমের মধ্যেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

সেই তীব্র শীতের পাশাপাশি হিমেল বাতাস জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, এই নিম্নমুখী তাপমাত্রা আরও কয়েকদিন বিরাজ করবে।

দিনাজপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ১০ দশমিক শূন্য ডিগ্রি, বৃহস্পতিবার ১১ দশমিক শূন্য ডিগ্রি ও বুধবার ছিল ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। সেই সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরেই এই জেলায় ঘন কুয়াশা পড়ছে। হিমেল বাতাস বইছে ঘণ্টায় ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার বেগ পর্যন্ত।

তীব্র শীতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত (দুপুর ১ টা) সূর্যেরে মুখ দেখা যায়নি। শুক্রবারও সূর্যের দেখা মিলেছিল শেষ বিকেলে। তাও আধাঘণ্টারও কম স্থায়ী হয়েছে। ফলে শীতের তীব্রতা এই এলাকায় একটু বেশিই রয়েছে। আর এই অবস্থায় খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

শীতের কারণে সমস্যায় পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। ঠিকভাবে কাজ করতে না পারায় তাদের আয় উপার্জনে ব্যাঘাত ঘটছে। আবার একটু কাজ করতেই নাজেহাল হয়ে পড়ছেন। শীত নিবারণের জন্য পুরাতন মোটা কাপড় (হকার্স মার্কেট) দোকানে ভিড় করছে মানুষজন। এই শীত ও ঘন কুয়াশা কৃষকদেরও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঠে থাকা আলু ও টমেটো ক্ষেতে দেখা দিয়েছে শীত জনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। আবার বোরো চারাও ঠিকভাবে অঙ্কুরোদগম হচ্ছে না।

দিনাজপুর সদর উপজেলার শেখপুরা এলাকার কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার কয়েকটি জমির আলু ক্ষেতের পাতায় মোড়ক দেখা দিয়েছে। এটি মূলত শীত ও ঘন কুয়াশার কারণেই। এখন ঘন ঘন বালাইনাশক স্প্রে করতে হচ্ছে। যাতে আমার উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

বুনাপাথার এলাকার পরিমল সরকার জানান, বোরো বীজতলায় বীজ বপন করলেও চারা গজাচ্ছে না। শীতের কারণে চারা একটু কম গজায়। আবার যেগুলো গজিয়েছে সেগুলোও লাল বর্ণ ধারণ করছে। অনেক সময় মরে যাচ্ছে। 

কালিতলা এলাকার অটোরিকশা চালক ফরিদুল ইসলাম বলেন, সকালে অটো নিয়ে বের হয়েছি। কিন্তু রাস্তায় লোকজন কম। তাই ভাড়া কম হচ্ছে। দুপুর হতে না হতেই আমার অবস্থা খারাপ। ঠান্ডা বাতাস আর কনকনে শীত। আর কাজ করবো না, বাড়িতে চলে যাবো। 

দিনাজপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়া সহকারী আসাদুজ্জামান বলেন, এই জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। গত কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রা কমছে। এটি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার প্রভাব থাকবে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে।