সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ


Md Firoj প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৪, ২০২৪, ২:২৯ অপরাহ্ন /
সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার ধুনটে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে পৌর এলাকায় সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কাজটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিন পর রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি করে কার্পেটিংয়ের কাজ সমাপ্ত করা হয়। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্থানীয় সরকারের করোনা প্রকল্পের আওতায় ধুনট বাজারের ফলপট্টি থেকে থানা মোড় পর্যন্ত ১৫০০ মিটার রাস্তা নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করে ধুনট পৌরসভা। এর ব্যয় ধরা হয়েছে, ৭৬ লাখ ৯৬ হাজার ৯৬৭ টাকা। নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে ১৩ শতাংশ কম দর দেওয়ায় জননী কনস্ট্রাকশন নামে স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। নির্মাণকাজের মেয়াদ ছিল গত ২০২৩ সালের ২৫ জুন থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে ঠিকাদার তিন মাস আগে কাজটি অন্য ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেন। অভিযোগ উঠেছে, সাব-ঠিকাদার রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া, মাটিমিশ্রিত পাথরের গুঁড়ো, নিম্নমানের বিটুমিন এবং বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করেছেন। রাস্তার পুরুত্ব ১৫ মিলিমিটার হওয়ার কথা থাকলে তা আট মিলিমিটার করা হয়েছে।

ধুনট থানা মোড় এলাকার বাসিন্দা আজিজার রহমান ও মজনু মণ্ডল জানান, প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ও যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। ঠিকাদার পাঁচ দিন আগে তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজ শেষ করেছেন। পৌরসভার প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্টদের অনুপস্থিতিতে রাতের আঁধারে কাজ করা হয়। ফলে ইচ্ছামতো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। তাই সড়কের বিভিন্ন স্থানে এখনই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ধুনট পৌরসভার প্রকৌশলী সাজেদী হক বলেন, ‘রাস্তার কাজ বিক্রি করে দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে জ্বালানি বেশি হওয়ার কারণে কাজ কিছুটা খারাপ হয়েছিল। নিম্নমানের কাজ করা হলে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ফোন না ধরায় এ বিষয়ে জননী কন্সট্রাকশনের মালিক ফরহাদ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ধুনট পৌরসভার মেয়র এজিএম বাদশাহ বলেন, ‘রাস্তাটি সঠিকভাবে নির্মাণ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছিল। তারপরও কোনও অনিয়ম হলে বিশ্বব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।’