সিলেটে দোকান কর্মচারী হত্যায় ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


Md Firoj প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৬, ২০২৩, ৩:৩২ অপরাহ্ন /
সিলেটে দোকান কর্মচারী হত্যায় ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সিলেট প্রতিনিধি

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় মুদি দোকানের কর্মচারী সজল বিশ্বাস পটল (৩৮) হত্যা মামলায় দুই জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং আরেক ধারায় আরও দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি দোকানে প্রবেশের অপরাধে পৃথক ধারায় পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে একমাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে সিলেটের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ভোলারকান্দি গ্রামের মৃত দছির আলীর ছেলে শাকিল আহমেদ (২০) ও মিয়াধন মিয়ার ছেলে সুমন আহমেদ (২২)। 

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামে ঋষিকেশ দে’র মুদি দোকানের কর্মচারী ছিলেন সজল বিশ্বাস। ২০২২ সালের ২০ জুলাই রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে খাবার খেতে যান। খাবার খেয়ে দোকানে ঘুমাতে এলে তাকে হত্যা করে আসামিরা। পরদিন সকালে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দোকানের মালিক ঋষিকেশ মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেঞ্চুগঞ্জ থানার সাবেক এসআই আতিক উজ জামান বলেন, ‘ওই গ্রামের তিন শিশু ঋষিকেশের দোকান থেকে বাকিতে জিনিসপত্র কিনতো। বকেয়া না দিয়ে আবারও বাকিতে মালামাল চাইলে সজলের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে শাকিল ও সুমনের সঙ্গে পরিকল্পনা করে দোকানে ঢুকে সজলকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা। হত্যার পর দোকানের ক্যাশ থেকে তিন হাজার ২৩০ টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শাকিল ও সুমন এবং তিন শিশুকে গ্রেফতার করা হয়। তারা আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে শাকিল ও সুমনকে অভিযুক্ত করে ২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বাকি তিন শিশুর বিরুদ্ধে শিশু আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে এখনও রায় ঘোষণা করেননি শিশু আদালত।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী দেবব্রত চৌধুরী লিটন বলেন, ‘আমরা আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছি। সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিলাম, তবে আদালত আসামিদের বয়স বিবেচনা করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। যেহেতু আদালত সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেছেন, সেজন্য রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’